CONDITIONS APPLY by HypoKrites

“সোল্লাসে চেঁচিয়ে উঠল ওরা, সিটি দিয়ে উঠল”…কবি অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের কবিতার এই লাইনগুলি আজও হয়তো সত্যি হয়ে ওঠে খেলার মাঠে, রাস্তাঘাটের জমাটি রকের আড্ডায়, এমনকি কখনো কখনো হয়তো বা সিনেমা হলের মধ্যেও। কিন্তু বাংলা নাটকের ক্ষেত্রে শেষ কবে এরকম ঘটেছে, বা আদৌ কখনো ঘটেছে কিনা, জানা নেই। কিন্তু এমনই হল জ্ঞানমঞ্চে হিপোক্রিটস্‌-এর প্রযোজনা “কন্ডিশনস্‌ অ্যাপ্লাই”-এ। যাঁরা বলেন বাংলা থিয়েটারের দুর্দশার প্রধান কারণ অল্পবয়সীদের অনীহা ও মুখ ফিরিয়ে থাকা, তাঁরা নিশ্চয়ই আশার আলো দেখতে পেতেন এমন একটি প্রযোজনা দেখতে এলে। অধিকাংশ দর্শকই টিনএজার, কলেজ পড়ুয়া। মঞ্চে অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও তাদেরই বন্ধু, তা প্রমাণ হচ্ছে প্রিয় বন্ধুরা মঞ্চে এলে দর্শক তাদের জন্য যেভাবে উদ্বেল হচ্ছে, তা দেখে।

পর্দা সরলে দেখা যায় অল্পবয়সী কিছু ছেলেমেয়ে ল্যান্ডলাইন হাতে নিয়ে কথা বলছে তাদের প্রেমিক-প্রেমিকার সঙ্গে। বিচ্ছেদের সংবাদে ভেঙে পড়েছে প্রত্যেকেই। কিন্তু সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে ল্যান্ডফোন যেমন আস্তাকুঁড়ে চলে যায়, হয়তো একই রকম ভাবে বদলে যায় অনুভূতিগুলি। তাই সেলফোনের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় মন সহজভাবে নেয় বিচ্ছেদ, মেনে নেয় না পোষালে অন্য কন্ডিশন খুঁজে নিয়ে অন্য সম্পর্কে পাড়ি দেওয়াকেও। এই যুগের নিয়মই বাঁধা এই কন্ডিশনস্‌-এর সুতোয়।

Conditions Apply

সত্যম ও অনন্যা

সত্যম ও অনন্যা এমনই যুগের দুই কলেজ পড়ুয়া দুই বন্ধু। যে কোন কলেজ স্টুডেন্টদের মতই তাদের জীবন – কলেজের ক্লাস, কোচিং, ফেস্ট বা পরের সরকারী চাকরি ইত্যাদি নিয়েই কেটে যায়। আর তার মাঝেই কখনো কখনো আসে প্রেম। এবং ঠিক একই রকম ভাবে, মাঝে মাঝেই চলেও যায়। বাধা হয়ে দাঁড়ায় নানান জিনিস; অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেলে না কন্ডিশনস, যা প্রয়োজন যে কোন সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে। ব্যাথায় কখনো সরব হয় তারা, আবার কখনো নিজের ব্যাথা লুকিয়ে রাখে, প্রেমিক-প্রেমিকার থেকে আঘাত পেয়ে আশ্রয় খুঁজে চলে বন্ধুর কাছেই। এরই মধ্যেও অনন্যা ও সত্যম খ্যাপার পরশ পাথর খোঁজার মতই খুঁজে চলে সত্যিকারের ভালোবাসা। একে অপরের দুঃখ-বেদনায় সঙ্গী হতে গেয়ে ওঠে একসঙ্গে “হ্যায় আপনা দিল তো আওয়ারা, না জানে কিসপে আয়েগা”। ক্রমে সেই ভালোবাসার মানুষকে তারা খুঁজে পায় একে অপরের মধ্যেই, কারণ মনে হতে থাকে যেন মিলে যাচ্ছে তাদের প্রয়োজনীয় ‘কন্ডিশনস’ বা শর্ত।, কারণ মনে হতে থাকে যেন মিলে যাচ্ছে তাদের প্রয়োজনীয় ‘কন্ডিশনস’ বা শর্ত। তাই দেখে নিতে চায়, এক সুরে কেমন ভাবে বেজে ওঠে দুজনে।

সত্যম এবং অনন্যা, দুজনেই অনবদ্য অভিনয় দিয়ে আটকে রাখল। অবাক করে দিল দুজনের অসাধারণ রসায়ন। এছাড়াও চোখে পড়ার মত অভিনয় করল শাশ্বতী ও অনন্যার প্রেমিক নীরব শিল্পীর ভূমিকায় যে অভিনয় করল।

Conditions Apply HypoKrites

আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে…

নাটকটির রচনা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু দৃশ্যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন অনুভব দাশগুপ্ত। বিশেষ করে প্রথম দৃশ্যটিতে ল্যান্ডফোন আর মোবাইলের পার্থক্যের মধ্যে দিয়ে যে যুগবদল, চেতনা বদল, অনুভূতি বদলের কথা তুলে ধরা হয়, তা অনন্যসাধারণ। অসাধারণ হয়েছে সঙ্গীতের প্রয়োগ – সঠিক সময়ে সময়ে বেজে উঠেছে পুরনো হিন্দী ছায়াছবির গান যেমন “অ্যাভি না যায়ো ছোড়্‌ কর্‌” বা “সখী ভাবনা কাহারে বলে”-র মত রবীন্দ্রসঙ্গীত।

Conditions Apply by HypoKrites

নীরব শিল্পীর তুলিতে অনন্যা

তবু মানুষের চিরকালীন ভালোবাসার খোঁজে চলতে থাকে নাটক, মেলাতে থাকে শর্তাবলি, যা প্রয়োজন সম্পর্ক গড়ে তুলতে। “কন্ডিশনস্‌ অ্যাপ্লাই” এই যুগের কিছু তরুণ-তরুণীর প্রচেষ্টার ফসল। গানে-গল্পে তাই ছড়িয়ে আছে ওদেরই চোখ দিয়ে দেখা চিরকালীন ভালোবাসা।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s