15 MINUTES TO FAME by 4th Bell Theatres

আমি 4th Bell Theaters-এর নাটক আগে দেখিনি। আমি একজন সাধারণ দর্শক, থিয়েটার বোদ্ধা নই। থিয়েটারের বিশেষ কিছুই বুঝি না। এমনকি নাটকের কি সব যেন ফর্ম হয়, সেগুলোকে নাকি অভিনয়ের মধ্যেই গড়া হয়, ভাঙা হয়, এসবও বুঝি না। প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে আমি নাটক দেখি কেন। এই প্রশ্নের একটা সহজতম উত্তর তৈরী আছে আমার – ভালো লাগে বলে। আর এই ভালো লাগায় ভরিয়ে দিতে সক্ষম 4th Bell Theaters er নতুন উপহার – “15 Minutes to Fame”।

একটা সাধারণ ছেলে – না, ঠিক সাধারণ নয় – সাধারণের চেয়ে একধাপ নীচেই যেন তার স্থান – যাকে বলে একদম “ক্যালা” – সবার কাছেই প্রায় অপাংক্তেয় যে, সে-ই যখন নিজের মধ্যে অন্য এক অচেনা নিজেকে খুঁজে পায়…আমরা সবাই কি তখন তার মধ্যেই নিজেদেরকে খুঁজে পেতে চাই? “15 Minutes to Fame” কোনো নাম-যশ-খ্যাতি খুঁজে বেড়ানোর গল্প বলে মনে হয়নি আমার; এটা একটা হেরো-আমির মধ্যেই এক হিরো-আমিকে খুঁজে পাওয়ার এক নিরলস প্রচেষ্টার কাহিনী।Andyদা কি এই হেরো-আমিরই মনের গভীর, গোপন স্বপ্ন নয়, যে আসলে আমারই সেই অন্য রূপ, সেই hero?

15 Minutes to Fame

পায়ে পায়ে আলো…

নাটকটির সবচেয়ে বড় গুণ, আমার মতে, তার প্রাণশক্তি। প্রতিটি অভিনেতাকে দেখে মনে হচ্ছিল, তারা নিজের নিজের অভিনয় উপভোগ করছেন, এবং সেই উপভোগের আমেজই দর্শকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে তারা সক্ষম হয়েছেন। দর্শকরা ক্রমাগত যেন জ্ঞান মঞ্চের আসন গুলো থেকে নিজেরাও কখন মনে মনে মঞ্চের ওপরের ওই ছোটো চাঁদিপুরের রূপকথার জগতে চলে গেছেন, একাত্ব হয়ে গেছেন ওই ধুত্তোর-ভাল্লাগেনা ছেলেটির সাথে। নাটকটির প্রত্যেক কুশীলবই প্রাণ খুলে অভিনয় করেছেন। গোরার ভূমিকায় সুমিত কুমার রায় অনবদ্য। তার সঙ্গেই তাল মিলিয়ে অভিনয় করেছে Andyদার চরিত্রে সাগ্নিক মুখার্জি, গোরার বাবার ভূমিকায় অভিজ্ঞান ভট্টাচার্য্য এবং গোরার মায়ের ভূমিকায় দেবলীনা ত্রিপাঠি। জ্যোতিষী দেবশঙ্করী খন্ডত্যর ভূমিকায় অরিজিতা মুখোপাধ্যায়ও যথাযথ।

মঞ্চসজ্জায় আমার যা প্রথমেই চোখে পড়েছিল তা হল পিছনের screen-এর সামনে ওই অর্ধেক ছেঁড়া গ্রামের scene আঁকা কাপড়টা – অদ্ভুত সুন্দর, ঠিক যেন একটা কবিতা। নাটকের শেষ দৃশ্যে এসে দর্শকদের চোখের সামনে থেকে যখন গল্পের একটা পর্দা ওঠে, তখন চমকে উঠতে হয়। এছাড়াও “15 Minutes to Fame” নাটকটায় মনে রাখার মতন অনেক অসাধারণ মুহূর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। তাদের মধ্যে যেগুলো মনকে নাড়া দিয়ে গেছে এবং যার উল্লেখ করতেই হবে তা হল অনেকগুলো ঘুড়ি যখন মঞ্চে উড়তে থাকে, সেই দৃশ্যটা; এবং অতি অবশ্যই, নদীতে প্রদীপ ভেসে যাবার দৃশ্য। অন্য সব কিছু যদি বাদও দিই, শুধু এই দুটি দৃশ্যের পরিকল্পনা করেছেন বলেই পরিচালক অনিরুদ্ধ দাশগুপ্তকে কুর্ণিশ জানাতে হয়।

Andy Warhol 15 Minutes to Fame

Andyদা (সাগ্নিক) ও গোরা (সুমিত)

একটা আশ্চর্য ব্যাপার হল, কাহিনীর দিক থেকে কোনো মিল না থাকলেও, এই নাটকটা কেন যেন মনে করিয়ে দিচ্ছিল এই সময়ের আর একটি সফল প্রযোজনা “দেবী সর্পমস্তা”-র কথা। আমার একার এই কথা মনে হয়নি, হয়েছে অনেকেরই। একটা কারণ নিশ্চয়ই সঙ্গীতের প্রয়োগ। তাছাড়াও গানের দলের মঞ্চে জায়গা নেওয়ার ধরণটাতেও কোথায় যেন একটা মিল লক্ষ্য করা যায়। আর একটা কারণ হয়তো নাটকের মধ্যে দিয়ে prop সরিয়ে set-এর অদল-বদল করা। এই নাটকের গানগুলিও মন ছুঁয়ে যায় ভীষণ ভাবে। গানগুলির রচয়ীতা দেবলীনা ত্রিপাঠি ও সুর ইন্দ্রনীল মজুমদারের।

15 Minutes to Fame by 4th Bell Theatres

গোরা (সুমিত) ও তার মা (দেবলীনা)

নাটকটার সবই কি ভালো? কোনো ভুল নেই, কোনো ত্রুটি নেই? তা কি কখনো হয় নাকি? একটা সমস্যা, আমার যেটা মনে হয়েছে, তা হল গানের মধ্যে কখনো কখনো শব্দগুলো ভালো করে শোনা যায়নি। গানের কথা ঠিক ভাবে বোঝা যায়নি কখনো কখনো, যন্ত্রসঙ্গীতের আওয়াজে তা ঢেকে গেছে। আরও কিছু ত্রুটি নিশ্চয়ই আছে যা আমার মতন আনাড়ি দর্শকের চোখে পড়েনি। কিন্তু তা সত্ত্বেও বলা যায়, এই নাটকের পাওনার সংখ্যা না-পাওয়ার সংখ্যার চেয়ে এত বেশী যে এই নিয়ে আমরা, দর্শকরা, বিশেষ মাথা ঘামাতে রাজি নই।

একটা নাটকের দল, তার অধিকাংশ সদস্য ৩০-শের কোঠায় পা দেয়নি – এরকমটা বাংলা থিয়েটারে শেষ কবে দেখা গিয়েছিল আমার জানা নেই। তবে যা জানি তা হল, এই ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মধ্যে এই নাটকের নেশা ছড়িয়ে দিয়ে শুধু মঞ্চেই নয়, দর্শকাসনেও অল্প বয়সী ছেলেমেয়েদের সংখ্যা বাড়িয়ে তুলছে এই নাট্যদল। বাংলা থিয়েটারকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য এটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সে জন্য 4th Bell Theaters-কে অশেষ অভিনন্দন। নাটকের রচনা, নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় অনিরুদ্ধ দাশগুপ্ত মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।

15 Minutes to Fame

বাবার (অভিজ্ঞান) সাথে গোরা (সুমিত)

পুনশ্চঃ নাটকটা হয়তো কিছু বুঝিনি; বা বুঝেছি; জানি না। তাতে কিছু এসে যায় না। যে ভালো-লাগায় মনটা ভরে গিয়েছিল, সেটাই আসল। আর এই অজানা ভালোলাগার তাগিদেই আবার ছুটে যাব 4th Bell Theaters-এর পরের প্রযোজনা দেখতে।

2 thoughts on “15 MINUTES TO FAME by 4th Bell Theatres

    • অনেক ধন্যবাদ! লেখাটি আপনার ভালো লেগেছে দেখে আমারও ভালো লাগল। কিন্তু আমার নিশ্চিত বিশ্বাস আপনি নাটকটি দেখলে আপনার আরও বেশী ভালো লাগবে। তাই পরের সুযোগেই দেখে নিন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s